রাত২.৩৭
https://gossipyperennial.com/uhbyqa9zan?key=7930a4400c984787d2d03ad2a34aa27f
### পুরো গল্পটা (যেটা কখনো কারো সাথে শেয়ার করিনি)
আমার নাম রাহাত। আজ থেকে ঠিক ১১ মাস আগের কথা বলছি। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর, রাত ২:৩৭।
সারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যি। আমরা দুজনে একসাথে থাকার প্ল্যান করছিলাম। বিয়ের কথাও পাকা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সারার সেই সোমনাম্বুলিজমের সমস্যাটা আমাকে সবসময় ভয়ে রাখত। কয়েকবার সে ঘুমের মধ্যে বাসার বাইরেই চলে গিয়েছিল। আমি তাকে খুঁজে এনে ছাদ থেকে নামিয়েছি।
সেই রাতে মেসেজটা আসার পর আমি যখন মিরপুর ১০-এর পরিত্যক্ত বাড়িতে ঢুকলাম, তখন যা দেখলাম, সেটা আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্ত।
আরিফ ভাইকে দেখে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম হ্যালুসিনেশন। কারণ আরিফ ভাই তো গত বছর মারা গেছে। ক্যাম্পাসের সবাই জানে, সে আত্মহত্যা করেছে। তার লাশও পাওয়া যায়নি। শুধু তার ফোন আর একটা চিরকুট পাওয়া গিয়েছিল যেখানে লেখা ছিল, “আমি যাকে ভালোবাসি, সে আমাকে ভালোবাসে না। তাই আমি চলে যাচ্ছি।”
কিন্তু সেই রাতে আরিফ ভাই জ্যান্ত দাঁড়িয়ে ছিল। তার গলায় দড়ির দাগ। চোখ কালো। সে বলল,
“সারা আমার ছিল। তুই তাকে কেড়ে নিয়েছিস। তাই আজ আমি তাকে নিয়ে যাব।”
আমি চিৎকার করে বললাম, “আরিফ ভাই, তুমি মরে গেছো! এটা কী হচ্ছে?”
সে হাসল। তার হাসিতে কোনো শব্দ ছিল না। শুধু মুখটা ফেটে গেল।
তারপর সে হাত বাড়াল। তার হাতে কোনো আঙুল ছিল না। শুধু হাড়।
আমি পিছনে ছুটলাম। কিন্তু ঘরের দরজা-জানালা সব বন্ধ। আমি কাঁদতে কাঁদতে সারাকে ফোন করলাম। ওপাশ থেকে সারা বলল, “রাহাত তুই কই? আমি তো বাসায়। তুই কি স্বপ্ন দেখছিস?”
আমি ফোন নামিয়ে দেখি, ঘর খালি। কিন্তু মেঝেতে একটা ছবি পড়ে আছে।
ছবিটা আমার আর সারার। আমরা দুজনে হাসছি। কিন্তু ছবিতে আমার মুখের জায়গায় শুধু কালো দাগ। আর সারার গলায় লাল দাগ।
আমি কোনোরকমে বাসায় ফিরলাম। পরের দিন সকালে। কিন্তু তারপর থেকে অদ্ভুত জিনিস হতে লাগল।
- প্রতি রাত ২:৩৭-এ আমার ফোনে একটা মেসেজ আসে। কোনো নাম্বার নেই। শুধু লেখা থাকে: “আমি তোর সাথেই আছি।”
- আমার আয়নায় আমার প্রতিচ্ছবি এক সেকেন্ড দেরিতে নড়ে।
- সারা এখন ঘুমের মধ্যে আমার নাম ধরে কাঁদে। আর বলে, “আরিফ এসেছে। সে আমাকে নিতে এসেছে।”
গ
গত মাসে আমি সাহস করে আবার সেই বাড়িতে গেলাম। এবার দিনের বেলা।
ভিতরে ঢুকে যা দেখলাম, সেটা আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে।
দোতলার ঘরে একটা পুরোনো আয়না আছে। আয়নার সামনে দাঁড়াতেই দেখি, আমার পিছনে আরিফ ভাই দাঁড়িয়ে। কিন্তু আমি ঘুরে তাকালাম, কেউ নেই।
তারপর আয়নায় দেখলাম, আরিফ ভাই আমার কাঁধে হাত রাখছে। আর তার হাত আমার গলায় চলে গেল। আমি গলা চেপে ধরে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বাস্তবে আমার গলায় কোনো হাত ছিল না।
আমি ছুটে বেরিয়ে এসেছি। কোনোরকমে। কিন্তু এখনো প্রতি রাতে আমার গলায় সেই চাপ অনুভব করি।
আর গতকাল…
গতকাল রাত ২:৩৭-এ মেসেজ এসেছে:
“আজ রাতে আমি তোকে নিয়ে যাব। সারাকে ছেড়ে দিয়েছি। এবার তোর পালা।”
আমি এখন এই গল্পটা লিখছি রাত ২:৩০-এ।
আর এখন ঘড়িতে ২:৩৬।
যদি এই পোস্টটা কেউ পড়ে থাকেন আর আমার খোঁজ না পান…
তাহলে জেনো, আরিফ ভাই আমাকে নিয়ে গেছে।
আর তুমি যদি মিরপুর ১০ নম্বরের সেই বাড়ির কথা কখনো শুনে থাকো…
কখনো যেও না।
কখনো।
(এই গল্পটা পড়ার পর তোমার ফোনে যদি ২:৩৭-এ মেসেজ আসে…
তাহলে জেনো, সেটা আমি না।
সেটা আরিফ।
আর সে এবার তোমাকে নিতে আসবে।)
শেয়ার করো।
যাতে আর কেউ এই ভুল না করে।
আমি আর বাঁচব না।
কিন্তু তুমি বাঁচো।
- রাহাত
(লেখা হয়েছে: ২:৩৭, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫)


Comments
Post a Comment